বরিশাল, ২২শে জানুয়ারি, ২০১৮ ইং,৯ই মাঘ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ সর্বশেষ আপডেট: ৩ ঘন্টা আগে
শিরোনাম

লাইভ রিপোর্ট

ব্যবসায়ের জন্য নয় দক্ষিনাঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তনের জন্য কাজ করছে গ্লোবাল শিক্ষা পরিবার

জানুয়ারি ১২, ২০১৮ ১০:৪৩ অপরাহ্ণ

 

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নতুন প্রজন্মের জন্য আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা আবশ্যক। গতিময় বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দক্ষিনাঞ্চল তথা দেশকে এগিয়ে নিতে শিক্ষার্থীদের বিশ্বমানের জ্ঞান, প্রযুক্তি, ও কর্মদক্ষতা অর্জন করতে হবে। এ জন্য আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বিদ্যাপীঠের কোনো বিকল্প নেই। আর বরিশালে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করার জন্য কাজ করছে গ্লোবাল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল। বরিশাল তথা দক্ষিনাঞ্চলে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে বছরের প্রথম দিনে বই উৎসবের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে পথচলা শুরু করেছে গ্লোবাল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল।

বাংলা এবং ইংরেজি মাধ্যমে পড়ানো এই প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে হাতেখড়ি থেকে পঞ্চম শ্রেনী পর্যন্ত মোট ৯ টি শ্রেনীতে পাঠদান করছে বরিশালের নামকরা শিক্ষকরা। এখানে যেমন রয়েছে লেখাপড়ার চমৎকার পরিবেশ, সেই সাথে আছে শিক্ষার্থীদের নৈতিক গুণে গুণান্বিত করতে বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রম।

সীমিতসংখ্যক আসনবিশিষ্ট প্রতিটি শ্রেণীতে আন্তরিকতা আর নিবিড় অনুশীলনীর মাধ্যমে পাঠদানের ফলে এখানকার শিক্ষার্থীরা প্রকৃত শিক্ষা লাভ করছে। এখানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে লিডারশিপ গড়ে তোলা এবং তাদের সৃষ্টিশীল মনোভাব বিকাশের লক্ষ্যে কো-কারিকুলার একটিভিটি এবং বিভিন্ন সেলফ অ্যাসেসমেন্টে অংশগ্রহণ করা আবশ্যক। তাই শিক্ষার্থীরা হয়ে ওঠে আত্মবিশ্বাসী, সহিষ্ণু, সৃজনশীল এবং দায়িত্ববান। শুধু পুঁথিগত বিদ্যা নয়, প্রতিষ্ঠানটির সকল শিক্ষার্থীকে শুদ্ধ বাংলা ভাষার সাথে ইংরেজি ভাষায় কথা বলায় অভ্যস্ত করার জন্য আছে বিশেষ ব্যবস্থা।

বরিশাল লাইভ টুয়েন্টিফোর ডট কমের এই প্রতিবেদককে এভাবেই বলেন গ্লোবাল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে পড়ুয়া কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা। গ্লোবাল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঘুরে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক।

শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করার প্রথম দিকেই অভিভাবকদের অভিনন্দনের জোয়ারে ভেসে যাওয়া প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের বোর্ড অব ট্রাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান সৈয়দা আরজুমান বানু নার্গিস বলেন, ব্যবসায়িকভাবে লাভবান হতে নয় বরিশাল তথা দক্ষিনাঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য বরিশালের সন্তান হিসেবে কিছু করার দায়বদ্ধতা থেকেই ২০১৬ সালে বরিশালের প্রথম বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এবং এই বছর থেকে গ্লোবাল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের কার্যক্রম শুরু করি। আর এসব কিছু সম্ভব হয়েছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারনে। মূলত তার অগ্রণী ভুমিকার কারনেই গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির পর দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্লোবাল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের কার্যক্রম শুরু করতে পেরেছি। তিনি আরও বলেন যখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সকল দিক থেকে সারা বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে তখন আমাদের আত্মউপলব্ধি থেকে আমরা গ্লোবাল শিক্ষা পরিবারের কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত নেই। প্রধানমন্ত্রীর পরে গ্লোবাল শিক্ষা পরিবারের সামনে এগিয়ে চলার জন্য জাহাঙ্গির কবির নানকের ভূমিকা অপরিসীম বলে তিনি মন্তব্য করে বলেন আমরা আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করার জন্য বরিশালের প্রথম এডুকেশনাল হাব তৈরি করতে চাই। যেখানে হাতেখড়ি’তে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী গ্রাজুয়েশন শেষ করে উন্নত বিশ্বের সাথে বাংলাদেশের হয়ে লড়াই করতে পারবে। সেই লক্ষ্যেই বরিশালের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার এক বছর পরেই গ্লোবাল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের কার্যক্রম শুরু করেছি। কারন আমাদের লক্ষ্য একটা শিক্ষার্থী যেন অঙ্কুর থেকে পরিপূর্ণ থাকে। আমরা ভবিষ্যতে শিক্ষার সকল ধাপে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে বাংলা এবং ইংরেজী উভয় মাধ্যমের মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং কলেজের যাত্রা শুরু করার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছি। শুধু তাই নয় কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসারের জন্য বেসরকারি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট চালুর বিষয় প্রক্রিয়াধীন আছে।

গ্লোবাল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের বোর্ড অব ট্রাস্ট্রিজের ভাইস চেয়ারম্যান এস আমরিন রাখি জানান, বর্তমান সরকার শিক্ষাবান্ধব সরকার। গতিময় বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে প্রধানমন্ত্রী

শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে একটি যুগোপযোগী ও আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষানীতি করেছেন। সেই শিক্ষানীতি বাস্তবায়নেরর লক্ষ্যে বছরের প্রথম দিনেই বর্নাঢ্য আয়োজন এবং উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যে দিয়ে বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যবই তুলে দেওয়ার মাধ্যমে পথচলা শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ শিক্ষক মন্ডলী দ্বারা পরিচালিত এই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মাতৃস্নেহে পাঠদান করানো হচ্ছে। শিশুর মেধাবিকাশের জন্য ক্লাস পার্টি, বনভোজন, স্কাউটিং, সঙ্গীত ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতারও ব্যবস্থা রয়েছে। এরইসাথে সুশৃঙ্খল পরিবেশ, সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, শিক্ষার্থীদের জন্য নিজস্ব যানবাহন ব্যবস্থা রয়েছে। শুধু তাই নয় শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে অভিভাবকদের সাথে মতবিনিময় সভা আয়োজন করা হবে। সিসি ক্যামেরা সমৃদ্ধ নিরাপদ এই ক্যাম্পাসে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান এবং গরীব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে বিশেষ ছাড়। বিদ্যালয়ের এই স্বপ্নদ্রষ্টা আরও বলেন, কেবল বিত্তবানরা আন্তর্জাতিকমানের শিক্ষা পাবে, যার টাকা আছে সেই কেবল শিক্ষার ধাপগুলো একের পর এক অতিক্রম করবে আমরা এই ধারনাটি বদলে দিতে চাই। আর সেই চাওয়া থেকেই আমরা অন্যান্য বেসরকারি বিদ্যালয়ের তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম খরচে গ্লোবাল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে ভর্তির সুবিধা করে দিয়েছি। শুধু তাই নয় আমরা বইয়ের পাতা কিংবা শ্রেণীকক্ষে বন্দি হয়ে শিক্ষার ধারনাটা বদলে দিতে চাই। এজন্যেই খেলাধুলাকে এখন শুধু সহপাঠই নয় কারিকুলামের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কারন, খেলাধুলা ব্যতীত শিক্ষার পরিপূর্ণতা অসম্ভব। খেলাধুলার এই গুরুত্ব অনুধাবন করেই শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যালয় ভবনেই রাখা হয়েছে বিভিন্ন ইনডোর গেমসের ব্যবস্থা।

তিনি আরো বলেন, এছাড়া জঙ্গিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ধর্মীয় ক্লাসের ব্যবস্থা করেছি। প্রতি শুক্রবার দুই ঘণ্টা সকল ধর্মের ছাত্র ছাত্রীদের ধর্মীয় বিষয়ে পাঠদান করা হয়। যাতে করে এখানকার শিক্ষার্থীরা ধর্মীয় অপব্যাখ্যার স্বীকার হয়ে জঙ্গিবাদের মতো ঘৃনিত কাজে নিজেকে নিয়োজিত না করে। সন্তানদের ভর্তির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার পূর্বে একবার হলেও গ্লোবাল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঘুরে দেখার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন স্কুলের সভাপতি এস আমরিন রাখি।

গ্লোবাল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অধ্যক্ষ সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফুন নাহার আফরোজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে তার আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘বরিশালের বিশ্বমানের অনন্য এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পেরে আমি গর্বিত। বাংলাদেশকে আমরা যদি একটি আধুনিক রাষ্ট্রে পরিণত করতে চাই তাহলে প্রয়োজন বিশ্বমানের শিক্ষা এবং নৈতিক গুণে গুণান্বিত আত্মপ্রত্যয়ী এক নতুন প্রজন্মের। এ মহতী উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে প্রতিষ্ঠানটির সাথে জড়িত পরিচালকগন নিরলস পরিশ্রম করে চলছে। ইতিমধ্যেই পাঠদান শুরুর মাত্র ১০ দিনের মধ্যেই আমরা অনেক সফলতা পেয়েছি। আমাদের নির্ধারিত ১২০ টি আসনের বিপরীতে সাড়ে তিন শতাধিক ভর্তি আবেদন বিতরন করা হয়েছে। একইসাথে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। তার সাথে যোগ করে প্রতিষ্ঠানটির ভাইস প্রিন্সিপাল নির্মলেন্দু সমাদ্দার বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে পাঠদানের বাবস্থা করা হয়েছে। যাতে করে এখানকার শিক্ষার্থীরা পাঠগ্রহনে অধিক আগ্রহী হয়ে ওঠে। তিনি বলেন অল্প কিছুদিনের মধ্যে এ প্রতিষ্ঠানকে দক্ষিনাঞ্চলের একটি শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে আমরা এগিয়ে চলেছি’।

উল্লেখ্য, আধুনিক উপকরন সমৃদ্ধ উন্নত পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের পাঠদানের লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করেছে গ্লোবাল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল। নগরীর উত্তর আলেকান্দার রোজ বে ভবনে অবস্থিত এই বিদ্যালয়ে হাতে খড়ি থেকে পঞ্চম শ্রেনী পর্যন্ত বাংলা এবং ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষা প্রদান করা হবে। প্রতিষ্ঠানটিতে ইংরেজিতে দক্ষতা অর্জনের জন্য স্পোকিং ইংলিশ ক্লাসের সুব্যবস্থা রয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান এই গ্লোবাল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল।

Facebook Comments

পাঠকের মতামত:

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য
TECHNOLOGY: SPIDYSOFT IT GROUP