বরিশাল, ২২শে জানুয়ারি, ২০১৮ ইং,৯ই মাঘ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ সর্বশেষ আপডেট: ৩ ঘন্টা আগে
শিরোনাম

বরিশাল লাইভ ডেস্ক

রাজাপুরে আশ্রায়নে প্রকল্পের সরকারি ঘর বন্টনে অনিয়মের অভিযোগ

জানুয়ারি ৯, ২০১৮ ৭:২৪ অপরাহ্ণ

ঝালকাঠির রাজাপুরের মঠবাড়ি ইউনিয়নের মানকি সুন্দর গ্রামের আশ্রয়ন প্রকল্পের হতদরিদ্র ভূমিহীনদের জন্য সরকারি অর্থায়নে নির্মিত ২৫ টি বিল্ডিংয়ের বসতঘর বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আবেদন করেও ঘর না পাওয়া বঞ্ছিত হতদরিদ্র ভূমিহীন ২০ পরিবারের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে ঘর পাওয়া বিত্তবান, প্রভাবশালী ও চাকুরিজীবি ১১ ব্যক্তির নামে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ কমিটির সভাপতি ইউএনও আফরোজা বেগম পারুলের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, একটি চক্র ৩০ হাজার থেকে ৫৫ হাজার পর্যন্ত অর্থ হাতিয়ে নিয়ে বিত্তবান, প্রভাবশালী ও চাকুরিজীবিদের ঘর পায়িয়ে দেয় এবং টাকা দিতে না পারায় প্রকৃত ভূমিহীন পরিবারগুলো আশ্রয়ন প্রকল্পের সরকারি থেকে বঞ্ছিত হয়েছে। সম্প্রতি ওই আশ্রয়ন প্রকল্পের সামনে উন্মুক্তভাবে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ কমিটি ৮৬টি আবেদন যাচাই বাছাই করে ২৫ টি পরিবারকে প্রাথমিকভাবে মনোনিত করে কিন্তু ঘরপ্রাপ্ত ২৫টি পরিবারের মধ্যে ১১টি পরিবার বিত্তবান, প্রভাবশালী ও চাকুরিজীবিরা উল্লেখ করে ঘর না পাওয়া বঞ্ছিত হতদরিদ্র ভূমিহীন ২০টি পরিবার বিষয়টি তদন্ত করে বিত্তবানদের নাম বাদ দিয়ে পুনরায় ঘর দাবি করে অভিযোগ দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রায়ন বাস্তবায়ন সংস্থার বাস্তবায়নে যশোর সেনানিবাসের ১২ ফিল্ড আর্টিলারীর তত্বাবধানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রায় ৬৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা ব্যয়ে ১ একর ২৫ শতাংশ জমিতে ৫টি ব্যারাকে ২৫টি ঘর নির্মান করেন। তিনটি কক্ষ বিশিষ্ট প্রতিটি ঘর একটি পরিবারের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়। রয়েছে আলাদা বাথরুম ও বিশুদ্ধ পানির গভীর নলকূপ। আবেদন করেও আশ্রয়ন প্রকল্পে ঘর না পাওয়া পুখুরীজানা গ্রামের মৃত কাছেম খানের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম অভিযোগ করেন, তিনি স্থানীয় মালেক হাওলাদারের বাড়ির জমিতে বাঁশ খুঁটির ভাঙ্গা একটি খুপড়ি ঘরে বসাবাস করছেন। বিষখালির নদী ভাঙনে গৃহহারা বিধবা বৃদ্ধ এ নারী মানুষের বাড়িতে কাজ করে দু’মুঠো খাবার যোগাড় করেন। সিডরের সময় ত্রানের ঘর তার নামে বরাদ্দ হলেও নিজস্ব জমি না থাকায় সেই ঘর থেকেও তিনি বঞ্ছিত হন। প্রভাবশালী ও বিত্তবানদের দাপটে ঘর মেলেনি মানকি সুন্দরের আশ্রয় প্রকল্পেও। ইউএনও কাছে দায়েরকৃত অভিযোগগুলো থেকে জানা গেছে, ওই আশ্রয়ন প্রকল্পে ঘর বরাদ্দ পাওয়া উপজেলার মানকি গ্রামের মৃত মধু হাওলাদারের ছেলে অবিবাহিত

মোঃ জলিলের বাড়িতে চৌচালা একটি বড় টিনের ঘর ও মাঠে দুই একর জমি থাকা সত্বেও তার নামে এক পরিবারের ঘর বরাদ্ধ দেয়া হয়। উপজেলার ডহরশংকর গ্রামের মৃত আব্দুল কাদের ব্যাপারীর ছেলে মোঃ অহসান হাবিবের বাড়িতে দ্বীতল বিশিষ্ট টিনের বড় ঘর, পুকুরে সরকারিভাবে মাছ চাষ প্রকল্প, প্রধানমন্ত্রীর ত্রান তহবিল থেকে ১০ লাখ টাকা সোনালী ব্যাংকে জমা আছে, তিনি নিজে কোম্পানির গাড়ির ড্রাইভারের চাকুরি করেন। এছাড়া তার দুই একর ধানি জমি থাকা সত্বেও তার নামে ঘর বরাদ্ধ দেয়া হয়। উত্তর পুখুরিজানা গ্রামের দেলোয়ার মোল্লার স্ত্রী কমলা বেগমের বাড়িতে ত্রানের টিনের ঘর আছে, বসতবাড়ির জমি থাকা সত্বেও তার নামে ঘর বরাদ্ধ দেয় হয়। পুখুরিজানা গ্রামের মৃত আমির হোসেন খানের ছেলে মিজানের বাড়িতে বড় টিনের ঘর, বসতবাড়ির জমি ও ঢাকার গাজীপুরে ক্রয় কৃত ৫ শতাংশ জমি থাকা সত্বেও তার নামে ঘর বরাদ্ধ দেয়া হয়। পুখুরিজানা গ্রামের মৃত মোফাজ্জেল হাওলাদারের ছেলে খলিলুর রহমানের ছেলের বাড়িতে ত্রানের ঘর রয়েছে, বাড়ি ও মাঠে প্রায় ১ একর জমি, ৭/৮টি গরু আছে ও আর্থিক সচ্ছল থাকা সত্বেও তার নামে ঘর বরাদ্ধ দেয়া হয়। উপজেলার মানকি গ্রামের শামসের আলীর ছেলে মশিউর রহমান মন্টুর বাড়িতে বড় ঘর, ২ একর জমি, পিতার বিল্ডিং এবং স্বামী-স্ত্রীর উভয়ে একটি সংস্থায় চাকুরি করা সত্ত্বেও আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়। উত্তর পুখরিজানা গ্রামের আউয়াল হাওলাদারের স্ত্রী দেলোয়ারা বেগমের ঝালকাঠি শহরে ব্যবসা রয়েছে, ১৫ শতাংশ জমির বাগান বাড়ি সত্ত্বেও আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়। একইভাবে জুলফিক্কার আলীর ছেলে মোস্তফার জমি রয়েছে, মোতালেব হাওলাদারের ছেলে রাসেলের জমি রয়েছে, অবসর প্রাপ্ত প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক মৃত খলিলুর রহমানের স্ত্রী রুলিয়া বেগমসহ ১১ জন ব্যক্তি বিত্তবান হওয়া সত্ত্বেও আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়। মানকি সুন্দর আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ কমিটির সভাপতি ইউএনও আফরোজা বেগম পারুল জানান, প্রাথমিকভাবে মনোনিত ২৫ টি পরিবারের মধ্যে ১১টি ধনী পরিবার ঘর পেয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ঘর বঞ্ছিত ২০ টি পরিবার। ধনী ব্যক্তিরা ঘর পেলে তদন্ত সাপেক্ষে তা বাতিল করে প্রকৃত আশ্রয় ও সহয় সম্ভবলহীনদেরই ঘর দেয়া হবে।

Facebook Comments

পাঠকের মতামত:

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য
TECHNOLOGY: SPIDYSOFT IT GROUP